বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেছেন মহান বাঙালী জাতি ও স্বাধীন সর্বোভৌম রাষ্টের স্থপতি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে তার স্বপ্ন নস্যাৎ করতে দেশী বিদেশী আন্তর্জাতিক কুচক্রী মহল তার কন্যা দেশ রত্ন শেখ হাসিনাকেও হত্যা করার নীল নকশা করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু আ্যাভিনিউতে গ্রানেড হামলা করে চিরতরে জাতির জনককের কন্যাকে হত্যা করে যুগ যুগ ধরে লুটপাট করার ষড়যন্ত্র করেছিল বিএনপি জামাতের নেতা কর্মীরা। এছাড়া সমস্থ সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে মুক্তি যুদ্ধ করে যে বাবারা এদেশকে স্বাধীন করেছিল সেই বাবাদের ভ্যান চালাতে জুতা পালিশ করতে বাধ্য করেছিল। অনেক চড়াই উৎরাই পার করে সেই মুক্তিযুদ্ধের বাবারা সহ যারা জাতির জনকের কন্যাকে ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছিল তারা বাড়ি বাড়িতে যেয়ে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় এনেছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশ রত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্য ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার নিহত শহিদদের ষ্মরন ও প্রতিবাদে প্রধান অতিথি হিসাবে কথাগুলো বলেন মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।
শনিবার শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গনে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইলিয়াছ আযম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে মেয়র লিটন বলেন,জাতির জনক ছিল সিংহ হৃদয় পুরুষ মহাকালের বাংলার ইতিহাসে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে মহান মানুষ যে মানুষটি সে নিজের প্রানের চেয়ে নিজের দেশের মানুষকে ভালবাসতেন সকল সময় তার কন্ঠ উচ্চারিত হয়ে উঠত নির্যাতিত নিপিড়িত মানুষের জন্য সেই মহান পুরুষের কন্যা শেখ হাসিনা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে সফল ভাবে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। সেই নেত্রীর মত এত দক্ষতার সাথে এত যোগ্যতার সাথে তার মত তীক্ষè বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ আর রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না এই ভুখন্ডের ইতিহাসে। ১৫ আগষ্ট হত্যা কান্ডের পর যারা এই হত্যা কান্ড ঘটিয়েছে তারা সুপরিকল্পিত ভাবে চিন্তা করেছে জাতির জনককে হত্যা করার পর আমরা যারা অনৈরাজনৈতিক পর্যায় রয়েছি আমরা স্বাধীনতার বিপক্ষের ভাবধারা মানুষ রয়েছি তারা ২১ টি বছর এদেশের সম্পদ লুটপাট করে খেয়েছি। তাই তারা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যেমে তারা ক্ষমাতার পালাবদল ঘটিয়ে জাতির জনকের কন্যাকে ২১ আগস্ট হত্যা করার নীল নকশা আটে। সেই গ্রানেট হামলায় ২২ জন মানুষ মারা যায় আরো দুই জন অজ্ঞাত রয়েছে। প্রায় তিন শত মানুষ গ্রানেডের স্পীলিন্ডার নিয়ে এখনও বেচে আছে। ওই সমাবেশে যে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল তা আনা হয়েছিল পাকিস্থান থেকে। এটা যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। তারা হত্যা করতে চেয়েছিল সকল গনতান্ত্রিক কন্ঠকে রুদ্ধ করতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল দেশ প্রেমকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তারা উন্নয়নকে হত্যা করতে চেয়েছিল । তারা এক সোনার বাংলাদেশকে হত্যা করতে চেয়েছিল।
তিনি আরো বলেছেন দেড় দশক আগে এই দিনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চালায় ও শেখ হাসিনাকে হত্যার ধারাবাহিক চেষ্টার এক চূড়ান্ত রূপ এই হামলায় প্রকাশ করে।একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি যোগাযোগ এবং সরকারের উদাসীনতা ও ক্ষেত্র বিশেষে সহযোগিতা বা পৃষ্ঠপোষকতায় একটি উগ্রপন্থী গোপন সংগঠন কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, সেটারও একটা বড় উদাহরণ । ১৯৯৯ সালের মার্চ থেকে ২০০৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় বছরে এই একটি গোষ্টি দেশে ১৩টি বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে ১০৬ জন নিহত হন। আহত হন ৭০০ ও বেশি মানুষ। আওয়ামী লীগ ও সিপিবির সমাবেশ, উদীচী ও ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর এসব হামলা হয়। এই সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকেই হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে অন্তত চার দফা।
মেয়র লিটন বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার আমলের (২০০১-০৬) প্রথম তিন বছর হুজি নামে একটি সংগঠন চুপচাপ ছিল। ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে আবার নাশকতা শুরু করে। তিন মাসের মাথায় ২১ আগস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে তাঁর সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায়। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও নিহত হন আইভী রহমানসহ দলের ২২ নেতা–কর্মী। আহত হন শেখ হাসিনাসহ কয়েক শ নেতা–কর্মী। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ কিবরিয়াসহ পাঁচজনকে হত্যা করে।শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার পরিকল্পনাও সেই সূত্রে গাঁথা বলে ধারণা করা হয়।এসব হামলার প্রধান আসামি মুফতি হান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির এমন একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে এই জঙ্গিনেতা বলেছেন, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা অনেক বড় জায়গা থেকে এসেছে। তিনি কেবল তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। ‘বড় জায়গা’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত বলেননি। আদালতে দেওয়া তাঁর জবানবন্দিতেও এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়নি। তবে আদালতে তিনি বলেছেন, ২০০০ সালের জুলাই মাসে হুজির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। আর, ২১ আগস্ট হামলার ঘটনায় তৎকালীন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপির নেতা তারেক রহমানের সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এক বছরের মধ্যে হুজির প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি গ্রেপ্তার হন। শীর্ষ জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিন এই জঙ্গিগোষ্ঠীর কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান নেই। তবে দেশে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি শেষ হয়ে যায়নি। আইএস ও আল-কায়েদার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের মতাদর্শ অনুসরণকারী একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী নতুন মাত্রার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মেয়র লিটন বলেন আজ অবহেলিত শার্শার জনপদের প্রকৃত ত্যাগি আওয়ামী নেতাকর্মীরাও আছে একজন জনপ্রতিনিধির রোষানলে। আজ এই ত্যাগিরা বার বার হামলা মামলার শিকার হচ্ছে। আর এখানে এই ব্যবসায়ি নেতা হাইব্রিড বিএনপি জামাতের লোক নিয়ে শার্শায় ব্যবসা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনিতী করি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে। তার আদর্শর যারা নেতা কর্মী আজ অবহেলিত অপমানিত আমি শার্শার রাজনীতি তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে চাই। স্বাধীন বাংলার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান এর আদর্শ তারা লালন করে না তারা পালন করে না। আমরা জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে যতদিন বেচে থাকবে ততদিন লড়াই সংগ্রাম করে যাব।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আহসান উল্লাহ মাষ্টার, শার্শা উপজেলা ভাইচ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ফজলূল হক বকুল,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শেখ কোরবান আলী, ত্রান ও সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক ্আলতাফ হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, কোষাধ্যাক্ষ খোদাবক্স, সাবেক যুবলীগ নেতা রুহুল কুদ্দুস ভাইয়া, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম রেজা বিপুল, যুবলীগ নেতা সাহেব আলী পুটখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল গফফার সরদার, বেনাপোল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা সাহেব আলী, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আকুল হোসাইন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সজল, দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক ঢাকা তিতুমীর কলেজের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন ফারাজি।
স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ বিঃদ্রঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষামান।