বেনাপোল বন্দরে কোন কারন ছাড়া দিতে হচ্ছে ৪৫ টাকা ট্যাক্স

বেনাপোল বন্দরে কোন কারন ছাড়া দিতে হচ্ছে ৪৫ টাকা ট্যাক্স


বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
যাদুঘর ও নয় চিড়িয়াখানাও নয় । অকারনে দিতে হচ্ছে দেশ বিদেশ থেকে আসা পাসপোর্টযাত্রীদের ৪৫ টাকা। অফিসসিয়াল ভাবে ঘোষনা আছে ৪১.৭৫ টাকা। এ অর্থ দিতে হচ্ছে বেনাপোল স্থল বন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল হিসাবে চার্জ।এর সাথে সুযোগ বুঝে পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে উৎকোচ দাবি করছে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা।

সারা দুনিয়া জুড়ে নিয়ম রয়েছে পাসপোর্টযাত্রীদের দেখভাল এর দায়িত্বে শুধু মাত্র কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন পুলিশ। কিন্তু এ নিয়ম দেশের আন্তর্জাতিক চেকপোষ্টে বেনাপোল মানা হচ্ছে না। এখানে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, এর পাশাপাশি রয়েছে আনছার, আর্মস পুলিশ, ও পিমা নামে একটি বেসরকারী সিকিউরিটি কোম্পানির সদস্য। বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তের সাথে অনেক সন্মান জুড়ে রয়েছে। এ পথে প্রতিদিন শত শত দেশী বিদেশী পর্যটকরা ভারতে যায়। কিন্তু বেনাপোল আসলে পাসপোর্টযাত্রীরা পড়ে বিড়ম্বনায়। যাওয়ার সময় যাত্রীদের ল্যাগেজ স্কানিং মেশিনে দেওয়ার সময় লক্ষ করা যায় সেখানে আনছার সদস্যরা ও কাস্টমস এর সিপাইরা দাঁড়িয়ে যাত্রীদের নিকট থেকে পাসপোর্ট দেখার নাম করে অর্থ দাবি করে। কেউ কেউ না বুঝে টাকা দিয়ে চলে যায়। এরপর ইমিগ্রেশন এর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর বহির্গমনে দাঁড়িয়ে থাকা আনছার ও কাস্টমসের সিপাইরা সিল হয়েছে কিনা তা দেখার নাম করে কোথায় যাচ্ছেন; কেন যাচ্ছেন অহেতুক প্রশ্ন করে তাদের কাছে দাবি করে অর্থ।

আবার পাসপোর্টযাত্রীরা ফিরে আসার সময় আন্তর্জাতিক এ প্যাচেঞ্জার টার্মিনালে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মস পুলিশ তাদের কাছে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করে। এসব আর্মস পুলিশ পাসপোর্টযাত্রীদের সেখান থেকে দ্রুত চলে যেতে বলে আবার কখনো বলে আপনাদের মালামাল বিজিবি রেখে দিবে আমাদের কাছে দেন আমরা পার করে দিব। এসব আর্মস পুলিশ সারাদিন নিরাপত্তার দায়িত্বে থেকে তাদের নিজ দায়িত্ব পালন না করে চাঁদাবজিতে ব্যাস্ত সময় পার করে। তারা বন্দরের দেওয়া চেয়ারে বসে বসে অবসর সময় পার করে ধান্ধাবাজি করে।

ঢাকা থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের ২০ হাত রাস্তা হেটে বেনাপোল স্থল বন্দরকে ৪৫ টাকা দিতে হয়। আমরা দুর দুরান্ত থেকে আসা পাসপোর্টযাত্রীরা কেন বেনাপোল বন্দরকে সরকারী ৫০০ টাকা ভ্রমন ট্যাক্স বাদে ৪৫ টাকা দিব। এর কোন কারন খুজে পাই না।
মুন্সিগঞ্জের পাসপোর্টযাত্রী আমিনুর রহমান বলেন, আমরা বিদেশ গামি পাসপোর্টযাত্রী । যেখানে দেখভালের কাজ করবে নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন। কিন্তু সেখানে আনছার, আর্মস পুলিশ, বেসরকারী নিরাপত্তা প্রহরী ও বিজিবি কেন?

স্থানীয় সুত্র জানায় এ পথে দেশের সম্মানিত পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করে থাকে ভারত সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে। তাই এখানকার সাথে জড়িয়ে আছে দেশের সম্মান। কিন্তু একই পাসপোর্টযাত্রীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকদের কাছে কেন জবাবদিহি করবে এটা আমাদের বোধ গম্য নয়।

পাসপোর্টযাত্রীরা যদি অবৈধ উপয়ে ভারত থেকে পন্য দেশে সরবরাহ করে থাকে তাহলে কেন কাস্টমস তা আটক করে না। কাষ্টমস ছেড়ে দেওয়ার পর সেই পন্য আবার বিজিবি সদস্যরা খোলা জায়গায় তল্লাশি চালায় এটা কি দেশের জন্য সন্মান জনক। আবার যদি সরকারী প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের নিয়ম থাকে তাহলে কেন বিজিবি ও কাষ্টমস এবং অন্যান্য সংস্থার লোক এক জায়গায় তল্লাশি করে না। বার বার ল্যাগেজ খুলতে খুলতে হয়রানি হতে হয় পাসপোর্টযাত্রীদের।

এ ব্যাপারে বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক মামুন কবির তরপদারের নিকট জানতে চাওযা হলে তিনি বলেন, আমরা পাসপোর্টযাত্রীদের তল্লাশি বা হয়রানি মুলক কোন কাজ করি না। পাসপোর্টযিাত্রীরা বন্দরের এ ভবন ব্যবহার করে তার বিনিময় আমরা ৪১.৭৫ বন্দরকে ভ্রমন কর দিয়ে যায়। আমরা তাদের জন্য বিশ্রামের জায়গা বাথরুমের ব্যবস্থা ও সুপেয় পানি দিয়ে থাকি। অতি দ্রুত এখানে যাত্রীদের জন্য ট্রলিরও ব্যবস্থা করা হবে।

কিন্তু বেনাপোল বন্দর যে সুযোগ সুবিধার কথা বলছে এটা যাত্রীদের প্রয়োজন নাই বলে একাধিক পাসপোর্টযাত্রী অভিযোগ করে। পাসপোর্টযাত্রীরা বলে আমরা চলে যাব ইমিগ্রেশন এর কাজ করে ভারতে। তাদের দেয়া যে সুযোগ সুবিধার কথা বলা হচ্ছে এটা আমাদের প্রয়োজন নাই।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

One response to “বেনাপোল বন্দরে কোন কারন ছাড়া দিতে হচ্ছে ৪৫ টাকা ট্যাক্স”

  1. Kelnuct says:

    Priligy Generika Dapoxetine Kaufen Order Levitra Clomid Acheter Franche Comte Cialis No Rx Dog Cephalexin Brand Levitra Online Usa Pharmacy Generika Kamagra Rezeptfrei Bestellen

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০১৮-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Theme Developed BY AMS IT & Solutions