দ্বীনবন্ধু মিত্রের প্রিয় বেতনা মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে

দ্বীনবন্ধু মিত্রের প্রিয় বেতনা মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে


মোঃ আনিছুর রহমান, বেনাপোল থেকে ঃ
অবিভক্ত বঙ্গে যে সব নদ নদীর এপার ওপার একই ¯্রােতধারা ছিল তার অনেকগুলোই আজ আর নেই। কোন কোনটা থাকলেও তা মৃত প্রায়। যেমন দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল এর এই সীমাননায়। এই বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল । বেনাপোল আর পেট্রাপোল অবিভক্ত বঙ্গের যশোহর জেলার বনগাঁও মহাকুমা এর অন্তর্গত ছিল। এই জনপদে ¯্রােতস্বিনী নদীর নাম ইছামতি। যার থেকে বেরিয়েছে অনেক শাখা; যেমন, বেত্রাবতী (বেতনা) নাউভাঙ্গা, কোদলা, কালিনী। সেই সময় শার্শার নাভারণের বেতনার তীরে পোষ্ট মাস্টার ছিলেন দ্বীনবন্ধু মিত্র। যেখানে বসেই তিনি লিখেছিলেন তার ঐতিহাসিক নাটক নীলদর্পন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের সেই বেতনা আজ পুরোপুরি খুন মৃত হয়ে গেছে। আসলে মরেনি ; আমরা সকলে মিলে গলটিপে তাকে খুন করে ফেলেছি।

সাতচল্লিশের পরেও ¯্রােতধারা ইছামতির শাখা গুলোতে বেশ ছিল। তখন তেমন কারোই মাথায় নদী দখলের চিন্তা ছিল না। কিন্তু একাত্তরের পর বলা চলে আমরা সকলেই কাছা খুলে নেমে পড়লাম নদী দখলের উৎসবে। যা হবার তাই হলো। বেতনা শেষ,কোদলা নেই, নাউভাঙ্গাও হারিয়ে গেছে। কিন্তু ওপারে এখানও নাউভাঙ্গা রয়েছে ¯্রােতস্বিনী । বরং সম্প্রতিককালে বনগাঁ পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র শ্রী শংকর আঢ্য এর উদ্যগে নাউভাঙ্গা, ইছামতি পুনঃখননের কাজ চলছে। কোন কোন এলাকায় খননের পর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যতদুর জানাগেছে ইছামতি সহ তার শাখা গুলোর খনন কাজ অব্যাহত রয়েছে। দুর্ভাগ্য শুধু আমাদের। আমরা পারলাম না। তবে বেনাপোল সীমান্ত চেকপোষ্ট এলাকা থেকে পাঠবাড়ি সড়কের পৌরসভা ভবন পর্যন্ত বেতনাকে দখল মুক্ত করে একটি সরবর তৈরী করার যে উদ্যগ বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন নিয়েছিলেন তা আদৌও হালে পানি পায়নি।

এ সম্পর্কে বেনাপোল পৌরসভার টিএল সিসি কমিটির সন্মানিত সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীন সাংবাদিক কবি আলতাফ চৌধুরী এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন, এই বেনাপোলে বেতনা নদীর কোন চিহ্ন আজ আর নেই। যে যার মত নদীর অংশবিশেষ দখল করে ঘের বানিয়েছে, পুকুর কেটেছে, দালান কোঠা উঠিয়েছে। ঐসব দখলবাজদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন এসব আমাদের বাপদাদার আমালের রেকর্ড এর সম্পত্তি। কিন্তু প্রশ্ন হলো এককালে ¯্রােতস্বিনী নদী কিভাবে বাপদাদার আমলের রেকর্ড এর সম্পত্তি হয়ে গেল ? ভুমি দপ্তর রাষ্ট্রের এই সম্পত্তি রক্ষার বদলে কিভাবে ভুমি দস্যুদের হাতে দিয়ে দিল ?

গত ১৮ ফেব্রুয়ারী সোমবার সরেজমিন খোজ খবর নিতে গিয়েছিলাম এই সীমান্তে বেতানা. কোদলার বাস্তব অবস্থার। বেতানার কোন হদিস পায়নি। এলাকার মানুষ আঞ্চলিক ভাষায় এই বেতনার নাম বলে হাকর। সেই হাকরের বুকের উপর এখন দালান কোঠা। আর কোদলার বুকে হচ্ছে ইরিধানের চাষ। কোদলা পাড়ের একটি গ্রাম ঘিবা। সেখানকার কয়জন কৃষকের সাথে কথা হলো । তারা বললেন শুনেছি ভারতের অংশে কোদলা খনন করা হচ্ছে। আমাদের এপারেও খনন করা উচিৎ।

বেনাপোল পৌরসভার প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টু বলেন, আমরা দাবি করছি যশোর জেলা প্রশাসন অবিলম্বে বেতনা দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করবেন। তবে এসব বিষয়ে জনমত ইতিবাচক হওয়া দরকার। জনগনের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরী। বেনাপোল পৌরসভার সন্মানিত কাউন্সিরার কামরুন্নাহার আন্না বলেন, হাকর দখল মুক্ত হোক এটা আমরা চাই। বেনাপোলের বিশিষ্ট সিএন্ড এফ ব্যবসায়ি প্রবীন সাংবাদিক কাজী শাহজাহান সবুজ বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি ; আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বেতনা দখল মুক্ত করার জন্য অনেক লেখালেখিও করেছি। আমরা চাই বেতনা দখলমুক্ত করে ইছামতির সাথে সংযুক্ত রেখে স্্েরাতধারা ফিরিয়ে আনা হোক। প্রেসক্লাব বেনাপোল এর সদস্য কন্ঠ শিল্পী জিএম আশরাফ বলেন, শার্শা থেকে বার বার নির্বাচিত জাতিয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ শেখ আফিল উদ্দিন বেতনা দখল মুক্ত করার ব্যাপারে উদ্যগ গ্রহন করবেন এই দাবি রাখছি।

এদিক সরোজমিনে বেতনার বিভিন্ন এলাকা ঘোরার সময় দেখা গেল বাহাদুরপুর এলাকায় বেতনার সংযুক্ত বাওড় এলাকা থেকে অবাধে বালি উত্তোলন করে নেওয়া হচ্ছে। কেবা করা এই বালি নিয়ে যাচ্ছে সেসব ব্যাপারে এলাকার সাধারন লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা মুখ খুলতে নারাজ। বরং এসব প্রশ্নকালে তাদের মুখে ভিতির ভাব ফুটে উঠে। এতেই বোঝা যায় দখলবাজ ভুমি দস্যুদের কর্মকান্ড কেমন চলছে।

আপনার মন্তব্য এই বক্সে লিখুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০১৮-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Theme Developed BY AMS IT & Solutions