সংবাদ শিরোনাম :
বেনাপোল ট্রাক টার্মিনালের কার্যক্রম ব্যর্থ করে দিতে অশুভ চক্রের অপতৎপরতা শার্শায় নারী কেলেংকারী দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা শার্শা ও বেনাপোল সীমান্তে পৃথক অভিযানে ৮৮ কেজি গাজা সহ আটক ১ জোহরা ফ্রি মেডিকেল ক্লিনিক ডক্টরেট ডিগ্রি’ নিয়ে মমতাজ এর যত কথা সর্বাত্নক লকডাউন পালনে বেনাপোলে কঠোরতা।। সাধারন জনজীবন বিপর্যস্ত শার্শায় মাকে ধর্ষন করতে না পেরে ৮ বছরের মেয়েকে ধর্ষন চেষ্টা করার অভিযোগ আলিম নামে এক নরপশুর বিরুদ্ধে বেনাপোল চেকপোষ্টের প্রধান ফটক দিয়ে চোরাচালানি পণ্য প্রবেশ।। কাজে বাধা দেওয়ায় কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দাকে মারপিট বড়াইগ্রামে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড  বেনাপোল ট্রাক টার্মিনাল এর শুভ উদ্বোধন করেন যশোর জেলা প্রশাসক
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে সতর্কতা জারী|| বিদেশ থেকে ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের নিজ খরচে ১৪ দিন হোটেলে থাকতে হবে

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে সতর্কতা জারী|| বিদেশ থেকে ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের নিজ খরচে ১৪ দিন হোটেলে থাকতে হবে

আশাদুজ্জামান আশা
দেশে করোনা ভাইরাস বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেনাপোল চেকপোষ্টে সতর্কতা মুলক প্রজ্ঞাপন জারির চিঠি এসেছে। প্রধান মন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সেই সাথে বিদেশ থেকে যে সব যাত্রী দেশে ফিরবে সে সব যাত্রী দেশে নিজ খরচে হোটেলে ১৪ দিন থাকতে হবে।

দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট বেনাপোল। প্রতিদিন এ পথে ভারত যাওয়া আসা করে দেশী বিদেশী পর্যটক। এছাড়া এদেশের সিংহ ভাগ মানুষ ভারতে চিকিৎসা, আত্নীয় স্বজন বাড়ি বেড়ানো, ব্যবসায়ীক কাজ ও ভ্রমনের জন্য ভারত যেয়ে থাকে। ১৪ দিন নিজ খরছে দেশে ফিরে হোটেলে থাকার কথা শুনে অনেকে হতাশায় ভুগছে। বিশেষ করে ভারতে যাওয়া চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগীরা পড়েছে বিপাকে।

বেনাপোল চেকপোষ্টে যশোর থেকে ভারত যাওয়ার সময় ক্যান্সার রোগি মাসুদ চৌধুরী বলেন আমি খুবই অসুস্থ। এমনিতে হুইল চেয়ারে বসে যেতে হচ্ছে। তারপর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে যদি হোটেলে ১৪ দিন থাকতে হয় তাহলেতো মহাসমস্যায় পড়তে হবে। একদিকে আর্থিক সমস্যা অন্যদিকে বাড়ির পরিবারের প্রয়োজনীয় সেবা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে।

করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার ১৮ টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
শতগুলো হলো ১, সবধরনের জনসমাগম ( সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়) সীমিত করতে হবে। উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে। ২, মসজিদ সহ সব ধর্মীয় উপসনালয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। ৩,পর্যটন/ বিনোদন কেন্দ্র সিনেমা হল/ থিয়েটার হলে জনসমাগম সীমিত করতে হবে এবং সব ধরনের মেলা আয়োজন নিরুৎসাহিত করতে হবে। ৪. গনপরিবহনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং ক্ষমতা ধারনের ৫০ ভাগের অধিক যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। ৫, সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি পূর্ণ এলাকাতে আন্তঃজেলা যান চলাচল সীমিত করতে হবে। প্রয়োজনে বন্ধ রাখতে হবে। ৬, বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক ( হোটেলে নিজ খরচে) কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। ৭, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী খোলা / উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন পুরক ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। ওষুধের দোকানে যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। ৮,স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্টানসমুহে মাস্ক পরিধানসহ যথাযত স্বাস্থ্য বিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। ৯, শপিং মলে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েরই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। ১০ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। ১১.অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা / আড্ডা বন্ধ করতে হবে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০ টার পর বাইরে বের হওয়া নিয়ন্ত্রন করতে হবে।১২,প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক না পরলে কিংবা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। ১৩, করোনা আক্রান্ত/ করোনার লক্ষণ দেখা দিলে ব্যক্তির আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ট সংস্পর্শে আসা অন্যান্যদেরও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। ১৪. জরুরী সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব সরকারি বেসরকারী অফিস প্রতিষ্ঠন শিল্প কারখানাসমুহ ৫০ ভাগ জনবল দ্বারা পরিচালনা করতে হবে। গর্ভবতী, অসুস্থ, বয়স ৫৫ উর্ধ্বো কর্মকর্তা কর্মচারীর বাড়িতে অবস্থান করে কাজ করার ব্যসস্থা গ্রহন করতে হবে। ১৫, সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা যথাসম্ভব অনলাইনে আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে। ১৬, সশরীরে উপস্থিত হতে হয় এমন যেকোনও ধরনের গনপরীক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিচালন নিশ্চিত করতে হবে। ১৭, হোটেল রেস্তোরাসমুহে ধারন ক্ষমতার ৫০ বাগের বেশী মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ১৮, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন সর্বদা বাধ্যতামুলক ভাবে মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব বলেন করোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়গুলি সকলকে মেনে চলতে হবে। তিনি প্রজ্ঞাপণ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২১ -এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Developed BY AMS IT & Solutions
error: Content is protected !!