বেনাপোল সীমান্ত ধুড় পাচারের নিরাপদ রুট

বেনাপোল সীমান্ত ধুড় পাচারের নিরাপদ রুট

আলতাফ চৌধুরী
করোনা মহামারির কারনে বৈধ পথে ভারত বাংলাদেশ যাত্রী যাতায়াত বন্ধ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বেনাপোল সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন রুট দিয়ে অবৈধপথে উভয় দেশের মধ্যে শত গুন বেড়ে গেছে। বেনাপোল সীমান্তর রুদ্রপুর, গোগা, পুটখালী, দৌলতপুর, অগ্রভুলোট, সাদিপুর রঘুনাথপুর, ধান্যখোলা সহ আরো কিছু এলাকা দিয়ে উভয় দেশের মধ্যে অবৈধ পথে যাত্রী যাতায়াত চলছে। এই অবৈধ পন্থায় যাতায়াতকারীদের স্থানীয় ভাষায় ধুড় বলা হয়। উল্লেখ্য অনেক যাত্রী নিতান্তই চিকিৎসার প্রয়োজনে বৈধ পথে যাতায়াতের সুযোগ না থাকায় অবৈধ পন্থায় যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য অসমর্থিত একাধিক সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে বেনাপোল সীমান্তের একেবারেই চেকপোষ্ট এলাকার সবচেয়ে বড় ধুড় পাচারকারী সিন্ডিকেট এর হোতা অশোক কুমার । এই লোকটির সিন্ডিকেটে অনেকেই আছে যারা এই অবৈধ পারাপারে যুক্ত। শোনা যায় এই সিন্ডিকেটের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক শ্রেনীর অসৎ সদস্যর ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের লোকরা বেশীর ভাগ সাদিপুর, পুটখালী ও দৌলতপুর রুট দিয়ে ধুড় পাচার করে থাকে। সিন্ডিকেটটির সাথে জড়িত রয়েছে পুটখালীর আব্দুল বারেক, দৌলতপুর এর মোজাম, কলম আলী, বারোপোতার সুমন , চেকপোষ্ট সাদিপুর রোডের বিপ্লব ঘোষ,ও রফিকুল ইসলাম (বর্তমানে উভয়ে জেলখানায়) ।

এদিকে উল্লেখিত সিন্ডিকেটের বাইরে রুদ্রপুর গ্রামের আবুল কালাম, ফেনসিডিল হানিফ, লাল্টু মিয়া, ধান্যখোলার শাহিন, শিপন হোসেন সহ এই সীমান্তের আরো অনেকেই এই অবৈধ ধুড় পাচারের সাথে যুক্ত রয়েছে।

আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে ধুড় পাচারকারী চক্রের মধ্যে এক শ্রেনীর ধর্ষক ঘাপটি মেরে থাকে।এরা আবার সুযোগ বুঝে বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার চেষ্টাকারী অনেক যুবতী নারীকে ধর্ষন করে। এই তো কয়দিন আগে বেনাপোল এর পুটখালী এলাকায় ঢাকা থেকে আগত দুই নারীকে ধর্ষন করার ঘটনা ঘটে। ওই নারী দুজন ভারতে যাওয়ার জন্য এসেছিল। ধর্ষিতা দু’জন ভারতে না যেতে পেরে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। সেই প্রেক্ষিতেই ঢাকা থেকে সিআইডির একটি টিম অত্র এলাকায় এসে অভিযুক্তদের তিনজনকে আটক করে।

সুত্র মতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশেষ করে ঢাকা, বরিশাল, মাদরীপুর, শরীয়তপুর এলকা থেকে অবৈধ পথে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্য আসা নারী পুরুষ শিশুদের কাউকে কাউকে এই ধুড় পাচারকারী চক্রের সদস্যরা নাভারন সাতক্ষীরা মোড়ে বিভিন্ন যানবাহন থেকে নামানোর পর সুবিধাজনক রুটে নিয়ে যায়। কখনো তাদেরকে বাগআচড়া কিংবা সাতক্ষীরার সুবিধা জনক রুট দিয়ে পার করা হয়। এই রুট গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঝাউডাঙ্গা, ভেটখালী-কৈখালী, ও ভোমরা। নাভারণ মোড় থেকে আবার কিছু লোককে পুটখালী দৌলতপুর, সাদিপুর, রঘুনাথপুর এলাকায় এনে পার করনো হয়।
বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ বিজিবি এর ৪৯ ব্যাটালিয়ন এর বেনাপোল কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মিজানুর রহমান এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, মানব পাচারকারীদের সাথে কোন আপোস নেই। আমাদের সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং এই দিকটির ওপর কঠোর নজরদারী করছে।

 

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২০-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Developed BY AMS IT & Solutions
error: Content is protected !!