বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি স্বভাবিক থাকলেও বাজারে পেয়াজের ঝাঁজ অনেক বেশী

বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি স্বভাবিক থাকলেও বাজারে পেয়াজের ঝাঁজ অনেক বেশী

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেয়াজের আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও আবারো পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। ভারত থেকে প্রতিদিন পেঁয়াজ আমদানি হলেও মুল্য বাড়তেই আছে। কাস্টমস সুত্রে গত ১ সেপ্টেম্বার থেকে আজ পর্যন্ত ভারত থেকে মোট ৬ শত ৫০ মে: টন পেয়াজ আমদানি করা হয়েছে। ভারত থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ মে:টন পেয়াজ আমদানি করা হয় এ বন্দর দিয়ে। পেয়াজের আমদানিকারকরা হলো সোনালী ট্রেড লিমিটেড, হামিদ এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আল্লাহর দান ফ্রুটস লিমিটেড। প্রতি টন আমদানি কৃত পেঁয়াজের শুল্কায়ন মূল্য ৩০০ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে আমদানিকারকদের প্রতি কেজি পিয়াজ কেনা পড়ে ২৫ টাকা। বাংলাদেশী আমদানি কারকরা ভারতের নাসিক শহর থেকে পেয়াজ আমদানি করে থাকেন। গত ১৩ দিনে ৬ শত ৫০ টন পেয়াজ আমদানি হলেও বাজার ঘুরে দেখা গেছে বাজারে পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে বেশী দামে। আড়তে ভারতীয় পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা এবং দেশি পিয়াজ ৫৫ টাকা।খুচরা বাজারে পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা ও ৬৫ টাকা। পেঁয়াজ আমদানিকারক এম এস আলম বলেন, আমরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার পর সীমিত লাভে সেগুলো বিক্রি করে থাকি। প্রতিটি বাজারে আড়তদারদের মধ্যে একটা সিন্ডিকেট কাজ করে।এরাই মূলত বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়।বাজারে পর্যাপ্ত পিয়াজ থাকলেও এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাজারে পেঁয়াজ সংকট দেখিয়ে পেঁয়াজের মূল্য ঊর্ধ্বগতি করে রাখে ।এছাড়াও আরও একটি চক্র আছে বাজার অস্থিতিশীল করার জন্য কাজ করে থাকে। এরা বাজার সিন্ডিকেট এর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে । বেনাপোল ও শার্শা বাজারের আড়তদাররা জানান, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি অনেক কম।বেনাপোল ও সাতক্ষীরা বন্দর দিয়ে যে পেঁয়াজগুলো আমদানি হয়ে থাকে এই পেঁয়াজগুলো সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলে যায়। এসব পিয়াজ আমাদের ঢাকা হতেই কিনে আনতে হয়।খরচ পড়ে অনেক বেশি। যেদিন যেভাবে পিয়াজ কিনা হয় তার চেয়ে এক টাকা বা দুই টাকা লাভে আমরা বিক্রি করে থাকি। বর্তমানে আমরা ভারতীয় পেঁয়াজ ৪২ টাকা প্রতি কেজি এবং দেশীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি করছি। আমদানি করা পেয়াজ গুলি আমদানিকারকরা যদি সরাসরি বেনাপোল বাজারে বিক্রি করতো তাহলে পেঁয়াজের দাম এসব বাজারে আরো কম থাকতো।
বিভিন্ন বাজারের ক্রেতারা বলেন, কয়েকদিন আগেও বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। হঠাৎ করে বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।এক লাফে ভারতীয় পেঁয়াজ ২০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা এবং দেশীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকা থেকে খুচরা বাজারের ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মত মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য পেঁয়াজ কিনে খাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তারা আরো বলছেন বাজারে প্রশাসনের কোন মনিটরিং না থাকার কারণেই হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।বাজার মনিটরিং থাকলে পেঁয়াজের দাম এভাবে হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেতোনা। শার্শা উপজেলা নির্বাহী মেজিস্ট্রেট রাসনা শারমিন মিথি বলেন, বাজারে যাতে পেঁয়াজের দাম কেউ সিন্ডিকেট করে বৃদ্ধি করতে না পারে তার জন্য শার্শা,নাভারন বাগআচড়া ও বেনাপোল বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে নিয়মিত। কেউ সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাজারে বৃদ্ধি করলে তাকে জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ১৩ দিনে এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৬৫০মেট্রিক টন পেয়াজ আমদানি হয়েছে বেনাপোল বন্দরে পিঁয়াজের গাড়ি প্রবেশ করার সাথে সাথে সেটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। খুব কম সময়ে পরীক্ষণ ও শুল্কায়নের কাজ সম্পন্ন করে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২০-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Developed BY AMS IT & Solutions