গৃহবধূ আঁখি হত্যার বিচার দাবিতে নড়াইলের কালিয়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

গৃহবধূ আঁখি হত্যার বিচার দাবিতে নড়াইলের কালিয়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

নড়াইল প্রতিনিধি:গৃহবধূ আকলিমা খাতুন আঁখি (১৮) হত্যার বিচার দাবিতে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জয়পুর পল্লীসমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কালিয়ার সালামাবাদ ইউনিয়নের জয়পুর এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচীর কালিয়া উপজেলার মাঠ সংগঠক লিপি বিশ্বাস, সাবেক ইউপি সদস্য সুকরণ বেগম, খাদিজা বেগম, শাজনাজ পারভীন প্রমুখ। ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির সহযোগিতায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, নড়াইল জেলার পাশ্ববর্তী মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার কেড়িনগর গ্রামের গৃহবধূ কলেজছাত্রী আকলিমা খাতুন আঁখিকে শরীরে ডিজেল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আঁখির মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৫ আগস্ট বিকেলে অগ্নিদগ্ধ হন আঁখি। আঁখি মাগুরার কেড়িনগরের  আকরাম হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনার দু’দিন পর (১৭ আগস্ট) আঁখির দাদা রতন আলী বাদী হয়ে আঁখির সাবেক স্বামী একই গ্রামের (কেড়িনগর) নাজমুল মোল্যাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনের নামে মহম্মদপুর থানায় মামলা করেন। আমরা আঁখি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত বিচার চাই। নারী নির্যাতন বন্ধ করে সুস্থ-সুন্দর পরিবেশ গড়তে চাই।
আঁখির দাদা রতন আলীসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই বছর আগে আঁখির সঙ্গে কেড়িনগরের নাজমুল মোল্যার বিয়ে হয়। তারা একে-অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করলেও তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের সাত মাস পর আঁখি নাজমুলকে তালাক দেয়। বিষয়টি নাজমুল মেনে নিতে পারেনি।
এরপর নাজমুল আঁখিকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত এবং বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আঁখি তার পরিবারকে জানায়। এর মধ্যে গত ১৫ আগস্ট বিকেলে আঁখি তাদের বাড়িতে বাথর“মে যাওয়ার সময় ওৎপেতে থাকা নাজমুলের লোকজন তাকে (আঁখি) জাপটে ধরে। আঁখির ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে তাকে বেঁধে ফেলে শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে আঁখির শরীরে বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায় এবং তার আত্মচিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসে।
এরপর প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে এবং পরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন প­াস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১ সেপ্টেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে আঁখি হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাজমুলের চাচি রত্নাসহ তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, আঁখিকে আবার বিয়ে করার জন্য ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে নাজমুল গ্রাম্য মাতব্বরদের ডেকে আনেন। আঁখিও নাজমুলকে বিয়ে করতে চায়লেও মেয়ের পরিবার বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। অন্য ছেলের সঙ্গে আঁখিকে জোর করে বিয়ে দেয়ার জন্য তার পরিবার চাপ দেয়ায় নিজে (আঁখি) শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।
মহম্মদপুর থানার ওসি তারক বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার পঁাচজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঘটনা নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২০-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Developed BY AMS IT & Solutions