বেনাপোলে অন্যের জমি দখলের অপচেস্টায় লিপ্ত হয়েছে ঘিবা গ্রামের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সবুর

বেনাপোলে অন্যের জমি দখলের অপচেস্টায় লিপ্ত হয়েছে ঘিবা গ্রামের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সবুর

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপচ্ষ্টো, জাল দলিল, ভুয়া নামপত্তন করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন সহ নানা অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে জনরোষের শিকার হয়ে বাড়ি থেকে পালানোর অভিযোগ উঠেছে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ি সবুর মোড়ল এর বিরুদ্ধে। ২১ বছর পর এসে জালিয়াতির মাধ্যেমে জমি দাবি করায় এলাকায় চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

সবুর মোড়ল বেনাপোল পোর্ট থানার ঘিবা গ্রামের খালেক মোড়ল এর ছেলে।

একাধিক অভিযোগে জানা গেছে বেনাপোলের ঘিবা গ্রামের কয়েকজন এর জমি পর্চা ও নামপত্তন জালিয়াতী করে সিটি ব্যাংক থেকে ঋন করেছে এই সবুর মোড়ল।ওই গ্রামের নজরুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম তাদের জমিতে ফসল উৎপাদনের কাজ করতে গেলে বাধা সৃষ্টি করে একই গ্রামের খালেক মোড়লের ছেলে সবুর মোড়ল। ভুুক্তভোগি বেনাপোাল পোর্ট থানার ৪ নং ঘিবা গ্রামের আলতাফ হোসেন এর ছেলে সহোদর নজরুল ইসলাম ও শহিদুল ইসালাম বলেন আমরা ১৯৯৯ সালে সবুর মোড়ল এর চাচা রহমত মোড়ল এর নিকট থেকে ঘিবা ৪৪ নং মৌজার ১৩৫০ দাগ থেকে সাড়ে ১৮ শতক জমি ক্রয় করি। সেই থেকে আমরা ওই জামি ভোগ দখল করে আসছি। এপর্যন্ত কোন বাধা বিঘ্ন আসে নাই। হঠাৎ সবুর মোড়ল ওই জমি তাদের বলে দাবি করে, ও ওই জমি ব্যাংকে রেখে টাকা ঋন নিয়েছে বলে ও জানায়। এ নিয়ে গ্রামে বিচার শালিশে রাজি না হয়ে সবুর মোড়ল এর পিতা খালেক মোড়ল আমাদের ওই জমিতে যাতে ফসল না ফলায় তার জন্য বাদি হয়ে যশোর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করে। এরপর দেখা যায় যে জমি সে বাধা দিচ্ছে সেই জমি নয়। ১৪৪ ধারার জমি হচ্ছে আর এস নং ১২৫ এবং দাগ নয় ৭১২। এবং জমির পরিমান ১৪ শতক। শেষ পর্যন্ত তার জালিয়াতি ধরা পড়ার পর বেনাপোল পোর্ট থানায় উপস্থিত হয়ে এসআই শফি আহমেদ রিয়েল এর মাধ্যেমে শালিশে বসা হয়। তখন রায় আমাদের অনুকুলে দেখে সবুর ও তার পিতা খালেক বলে আমরা কোন শালিশ মানি না। এটা আদালতের মাধ্যেমে মিমাংসা করা হবে।

জমির পুর্বের প্রকৃত মালিক রহমত আলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন জমি আমার ছিল। এই জমিটি ঘিবা ৪৪ নং মৌজার অন্তর্গত। যার দাগ নং ১৩৫০ জমি সাড়ে ১৮ শতক। তিনি বলেন দলিল সুত্রে ওই জামির প্রকৃত মালিক এখন নজরুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। সবুর আমার বড় ভাইয়ের ছেলে। সে একজন জালিয়াতী প্রকৃতির লোক। এই রকম আরো লোকের সাথে সে নিজ জমি বিক্রয় করে প্রতারণা করেছে।

ঘিবা গ্রামের নুর ইসলাম এর ছেলে মহিরুল ও একজন ভ্যান চালক জানায় এই সবুর আমাদের জামির ভুয়া নামপত্তন করে বেনাপোল সিটি ব্যাংক থেকে ঋন গ্রহন করেছে। এছাড়া তার পিতা খালেক মোড়ল জমি রেষ্ট্রির সময় মুখে দাড়ি মাথায় টুপি দেওয়া অন্যএকজন লোকের ছবি দিয়ে স্বাক্ষর করে। যে জমি আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখল করে আসাছি। এখন ওই কুচক্রীরা আমাদের জমি তাদের জমি বলে দাবি করছে।
সবুর এর চাচা আয়নাল হোসেন ও ওসমান মোড়ল বলেন আমার ভাই খালেক মোড়ল ও তার ছেলে সবুর মোড়ল খুব খারাপ কাজ করছে। তারা গ্রামের লোকদের কাছে জমি বিক্রি করে কয়েক বছর পর এসে বলছে আমরা জামি বিক্রি করি নাই। এতদিন পর কোন অভিযোগ মামলা মোকদ্দমা না করে হঠাৎ করে ওইসব জামির মালিক দাবিদার হওয়ায় আমরা বিস্মিত। আমরা আমার ভাইকে বলে দিয়েছি এরকম কাজ করলে তোমাদের মৃত্যুর পর আমরা জানাযায় যাব না।
সরেজামিনে ঘিবা গ্রামে গিয়ে খালেক ও তার ছেলে সবুরকে পাওয়া যায়নি। তারা এসব অপকর্ম করে গ্রামের জনগনের রোষানলে পড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। সবুর একজন মাদক ব্যবসায়ি বলে এলাকার বাসিন্দারা জানায়।

যশোর জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের ১৪৪ ধারা জারীকৃত আবেদনের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই শফি আহমেদ রিয়েল বলেন আমি ওই জমির প্রতিবদেন আদালতে দিয়ে দিয়েছি।

 

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২০-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Developed BY AMS IT & Solutions