বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন ছিল এক অসম্ভব জ্বালাময়ী যাদুকরী ভাষন —- মেয়র আশরাফুল আলম লিটন

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন ছিল এক অসম্ভব জ্বালাময়ী যাদুকরী ভাষন —- মেয়র আশরাফুল আলম লিটন

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন ছিল এক অসম্ভব জ্বালাময়ী যাদুকরী ভাষন। যে ভাষনের মধ্যে তিনি এক কথায় সব কিছু বুঝিয়েছিলেন। তিনি সেদিন বলেছিলেন তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়। অর্থাৎ কবির ছিল কবিতা, লেখাকের ছিল কলম, গায়গের ছিল গান, কৃষকের ছিল কাস্তে আর শ্রমিকের ছিল হাতিুড়। তিনি পাকিস্থানীদের বলেছিলেন আমরা কেন আন্দোলন করছি তার সবটা আপনারা জেনেও না জানার অভিনয় করছেন। কারন এদেশের অর্থ সম্পদ সব চলে যেত পাকিস্থানে। এদেশের বেকারদের চাকুরী দেওয়া হতো না। কথাগুলো বললেন ৭মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন উপলক্ষে বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসাবে মেয়র লিটন।

শনিবার বেলা ৫ টর সময় বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগ আয়োজিত পৌর আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আওয়ামী নেতা মোজাফফার হোসেন এর সভাতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে মেয়র লিটন বলেন,জাতির জনক তার য়ৌবনের শ্রেষ্ট ১৪ টি বছর জেল খেটে ছিলেন শুধু এই দেশকে ভালবেসে, দেশের মানুষকে ভালবেসে। তিনি অত্যান্ত দুঃখ ভারক্রান্ত হ্রদয় নিয়ে জাতির সামনে এসে বলেছিলেন, আমি এবং আমার নেতারা পাকিস্থানীদের যে সভ্য সুন্দর জাতি হিসাবে ভেবেছিলাম আসলে তারা ওতটা সভ্য সুন্দর নয়। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা নিয়ে যে লড়াই সংগ্রাম হয়ে ঢাকার রাজপথে এদেশের তরুন দামাল ছাত্র নেতাদের বুকের তাজা রক্তে রাজপথ ভেসেছিল । তরই ধারবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে আমরা সংখ্যাগরিষ্টতা পাওয়া সত্বেও আমাদের ক্ষমতায় বসতে দেয়নি ওই পাকিস্থানী হানাদাররা। বঙ্গবন্ধুর এ ঐতিহাসিক ৭ ম ার্চের ১৭ মিনিটের ভাষনটি যদি আমরা এ্যানালাইসেস করি তবে তার প্রতিটি শব্দ নিয়ে হাজার হাজার পৃষ্টা লেখা যাবে। এই ভাষনটি আজ ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত। এই ভাষনটি আজ এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে গেছে বিশ্বের কাছে। এই ভাষনটি শুধু বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে শোষিত নির্যাতিত মানুষের মধ্যে নয়। এই ভাষনটি সারা পৃথিবীর নির্যাতিত নিপিড়ীত মানুষের শক্তি। এই ভাষনটি একটি শক্তি, একটি মুক্তি। তিনি শত্রুদের সাথে বন্ধুত্বের মত কথা বললেন। তিনি বললেন তোমরা থাক আর তোমাদের কেউ কিছু বলবে না। তবে আর যদি আমার একটি মানুষের শরীরের রক্ত ঝরে তবে তোমাদের সাথে আমাদের মুখ দেখা দেখি বন্ধ হয়ে যাবে। কারন আমরা অনেক কিছুতেই বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের অর্থ সম্পদ সব কিছু তোমরা নিয়ে গেছ । আমাদের শিক্ষিত ছেলেরা বেকারত্ব বরন করছে। সব চাকরি ও দিচ্ছ পশ্চিম পাকিস্থানীদের। তিনি যেটা করতেন সেটা তিনি বিশ্বাস করতেন। তাই এই দেশের নদী নালা খাল বিল আকাশ বাতাশ আজ বঙ্গবন্ধুর জন্য কাঁদে। এই জাতির জন্য তিনি বেঈমানি করেন নাই। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের জীবন দিয়ে প্রমান করেছেন তিনি বাঙ্গালী জাতিকে কতটুকু ভালবাসতেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন বার বার লক্ষবার শুনলেও পুরানো হবে না। যতবার শুনা হবে ততবার নতুন মনে হবে। তার প্রতিটি কথায় মানুষকে একটি ইউনিট তৈরী করতে বাধ্য করেছে।
আলোচানা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক,কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান, বেনাপোল পৌর যুবলীগের আহবায়ক সুকুমার দেবনাথ, পৌর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সদস্য মতিয়ার রহমান মধূ, বেনাপোল পৌর আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি রহমত আলী, শার্শা উপজেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের সিনিয়র সদস্য জাকির হোসেন আলম, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান, বেনাপোল পৌর সভার কাউন্সিলার মিজানুর রহমান,।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এনামুল হক মুকুল প্রমুখ।

 

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২০-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Theme Developed BY AMS IT & Solutions