এনআরসির ছায়ায় আজ মোদি-হাসিনা বৈঠক, উঠবে তিস্তার জলবন্টন প্রসঙ্গও

এনআরসির ছায়ায় আজ মোদি-হাসিনা বৈঠক, উঠবে তিস্তার জলবন্টন প্রসঙ্গও

ডেস্ক রিপোর্টঃ

এনআরসির ছায়ায় শুরু হল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর। চারদিনের সফরে আজ শেখ হাসিনা ভারত বংলাদেশ বিজনেস ফোরামের অনুষ্ঠানে বলেন, এখন ভারত ও বাংলাদেশ ইতিহাসের সবথেকে বন্ধুত্বের মুহূর্তে পৌঁছেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত যে ভাবে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন দেশ গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া সহায়তা করেছিল, তখন থেকেই শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ মৈত্রী। আজ সেই মৈত্রী সর্বোচ্চ পর্যায়ে অধিষ্ঠান করছে বলে জানান হাসিনা। তিনি বলেন, এই একই কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তিনি এখন আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আখ্যা দিয়েছেন সোনালী অধ্যায় হিসাবে। আমরাও সেটাই মনে করি। উল্লেখ্য হাসিনার এবারের ভারত সফর তাঁর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ভারতে এনআরসি প্রক্রিয়া অসমে চালুর পর এবার গোটা দেশেই সেটা চালু হবে বলে ভারত সরকার ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণায় ভারত তো বটেই, বাংলাদেশে হাসিনা সরকার চাপে পড়েছে।
এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশে কতটা প্রভাব পড়বে সেটা আওয়ামি লিগ সরকারের কাছে জানতে চাইছে খালেদা জিয়ার বিএনপি। খালেদা জেলবন্দি হলেও তাঁর দল লাগাতার অভিযোগ করে চলেছে, শেখ হাসিনা ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাই হাসিনার কাছে এই ভারত সফর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির উত্তরণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁকে প্রশ্ন করা হবে ভারত সফর থেকে তিনি কী নিয়ে ফিরলেন। প্রধান প্রশ্ন হবে তিস্তা জলবন্টন। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। সেখানে তিস্তা এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলি নিয়ে আলোচনাই অন্যতম প্রধান ইস্যু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর। ভারতে আসার আগেই শেখ হাসিনা ঢাকায় বলে এসেছেন এবার তিস্তা নিয়ে ইতিবাচক কোনও বার্তা নিয়ে ফিরতে চাই। আর সেক্ষেত্রে আগামীকাল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি তিস্তা জলবন্টন নিয়ে ভারত শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নিচ্ছে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আগ্রহী ঢাকা।
উল্লেখ! তিস্তার জলবন্টন চুক্তিতে বাংলাদেশকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী জল দিতে সবথেকে বেশি আপত্তি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি একাধিকবার জানিয়েছেন,উত্তরবঙ্গের কৃষকদের বঞ্চিত করে তিস্তার জল বাংলাদেশকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি অন্তত চাইবেন না কোনও ভাবেই। আগামীকাল মোদির সঙ্গে বৈঠকে হাসিনা তিস্তা প্রসঙ্গ উত্থাপন করবেন। কিন্তু তার থেকেও বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে এনআরসি নিয়ে আলোচনা হবে কি না। দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ, নৌপরিবহণ, বাংলা-ভূটান-ভারত-নেপাল একটি উপ-আঞ্চলিক জোট, অভিন্ন নদীর জলবন্টন সংক্রান্ত স্থায়ী কাঠামো চুক্তি, রোহিঙ্গা এবং অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। এখনও পর্যন্ত স্থির হয়েছে ১২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে আগামীকাল। বাংলাদেশে প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে ভারতের এনআরসি নিয়ে। এনআরসির তালিকায় যারা বেআইনি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হবে, তাদের ভারত কি বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে? সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনদিকে বাঁক নেবে? এই প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে বিরোধী দলগুলি। সেই কারণেই গতকালই হাসিনা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আমার নিউইয়র্কে আলোচনা হয়েছে। মোদি বলেছেন, এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০১৮-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Theme Developed BY AMS IT & Solutions