সংবাদ শিরোনাম :
বাগাতিপাড়ায় দয়ারামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ডিমলায় ২টি লাশ উদ্ধার জগন্নাথপুরে উদ্বোধনের আগেই সেতু ধ্বসের ঘটনা, দায়সারা বক্তব্য কতৃপক্ষের, অন্য ৬ টি সেতু নিয়েও জনমনে আশংকা জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদল ও পৌর যুবদলের পরিচিতি ও কার্যকরী সভা অনুষ্টিত  ঝিনাইদহে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালিত ঝিনাইদহে হাতপা বাঁধা মাদ্রাসা সুপারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার বেনাপোলে গাঁজা সহ আটক-১ লোহাগড়ায় ফাতেমা হাসপাতাল উদ্বোধন বেনাপোলে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন নড়াইলের ঐহিত্যবাহী লোহাগড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্বর্ধনায় সিক্ত নড়াইলের নব নির্বাচিত পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা
নতুন ভিডিও রিফাতকে হাসপাতালে নিয়েছিলেন মিন্নি একাই

নতুন ভিডিও রিফাতকে হাসপাতালে নিয়েছিলেন মিন্নি একাই

ডেস্ব রিপোর্টঃ

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের আরেকটি নতুন ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের একটি সিসিটিভিতে ধারণ ১৫ মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে রক্তাক্ত স্বামীকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাযোগে একাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

ভিডিওটি গত ২৬ জুন সকাল ১০টা ২১ মিনিটে হাসপাতালে স্থাপিত কোনো একটি সিসিটিভিতে ধারণ হয়েছিল।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর মামলায় সাক্ষীর তালিকায় মিন্নির নাম থাকলেও পরে খুনের ঘটনায় তাকেই আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বিভিন্ন সময় দাবি করেছিলেন, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে তার ছেলের উপর হামলার পর পুত্রবধূ মিন্নি আর কোনো খবর নেননি।

তবে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের একটি সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা সদ্য প্রকাশিত ভিডিওতে তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, হামলায় রক্তাক্ত রিফাতকে নিয়ে সকাল ১০টা ২১ মিনিটের সময় মিন্নি একাই একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন।

এ সময় সেখানে দাঁড়ানো মামুন নামের একজন রিকশার দিকে দৌড়ে আসেন। এরপর তিনি দৌড়ে হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে একটি স্ট্রেচার নিয়ে রিকশার পাশে আসেন। তখন উপস্থিত অনেকেই তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। এরপর রিকশা থেকে নামিয়ে রিফাতকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর মিন্নি হাসপাতালের সামনে উপস্থিত একজনের ফোন নিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের ভেতরে যান। এর কিছু সময় পর মিন্নির বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন কিশোরকে হাসপাতালে দেখা যায়।

কিছু সময় পর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি সামনে আনা হয়। ১০টা ৪৪ মিনিটে অক্সিজেন ও দুটি স্যালাইন লাগানো অবস্থায় রিফাতকে স্ট্রেচারে করে ওই অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি ১০টা ৪৯ মিনিটের সময় বরগুনা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ছেড়ে যায়।

রিফাতকে সেদিন বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা হাসপাতালের সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি এবং বরগুনা জেলা পুলিশের একটি সিসি ক্যামেরা আছে। তবে এই ভিডিওটি কোন ক্যামেরায় ধারণ করা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বামী খুনের আসামি মিন্নি জামিনে কারামুক্ত হয়ে বরগুনার মাইঠা এলাকার নয়াকাটা বাবার বাসায় রয়েছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ বিষয়ে মিন্নির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল সাংবাদিকদের জানান, নতুন ভিডিওটি সংগ্রহ করেছি। মিন্নি যে সেদিন স্বামী রিফাতকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, তা এখন সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

তিনি আরো জানান, আমার মেয়ে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেই কলেজের সামনের ভিডিওটি এডিট করে কিছু অংশ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের সামনের এই ভিডিওটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তা পারেনি।

এ রকম আরো একটি ভিডিও আমার সন্ধানে আছে। আমি সেই ভিডিওটি উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছি বলে জানিয়েছেন মোজাম্মেল।

রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসা দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনার সিভিল সার্জন অফিসের জ্যেষ্ঠ টেকনিশিয়ান সুভাষ চন্দ্র।

তিনি বলেন, রিফাত শরীফকে যখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। রিফাতের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। বিশেষ করে তার বাম পাশের ফুসফুস ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, এ কারণে সব ব্যবস্থা করেও তার জীবন সংশয় হতে পারে ভেবে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রক্ত দেয়া হয়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিফাতকে দ্রুত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

গত ২৬ জুন বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় নামে। ওই ভিডিওতে স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নিকে চেষ্টা চালাতে দেখা গিয়েছিল। এরপর ২ জুলাই এ হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়।

কিন্তু মিন্নির শ্বশুরই পরে হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। এরপর ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার এসপির কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে সেদিন রাতে তাকে রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। হাইকোর্ট থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন নিয়ে এখন বাবার বাড়িতে রয়েছেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২১ -এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Developed BY AMS IT & Solutions
error: Content is protected !!