ভয়ে আতঙ্কিত এলাকাবাসী কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় শার্শার গোগা ইউপি মেম্বার মিজান এর অর্থ আদায়: একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ

ভয়ে আতঙ্কিত এলাকাবাসী কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় শার্শার গোগা ইউপি মেম্বার মিজান এর অর্থ আদায়: একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ

নাহিদ পারভেজ, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
শার্শার গোগা ইউপি পরিষদ এর মেম্বার মিজানের কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় আঞ্জুমান আরা নামে এক নারীকে কৌশলে ফাঁসিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছে বলে অভিযোগ করেছে ওই নারী। এছাড়া মিজান এলাকায় বিভিন্ন শালিশ সহ চাঁদাবাজী করে একাধিক লোকের নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। আতঙ্কিত এলাকাবাসি মিজান বাহিনির ভয়ে মুখ খুলতে সাহস না পেলেও মুখ খুলেছে আঞ্জুমানআরা নামে ওই নারী।

স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে এলাকায় আদিপত্য বিস্তারকারী গোগা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মিজান মেম্বার গোগা পুর্ব পাড়ার কালাম হোসেন এর নিকট থেকে ১ লাখ টাকা রুহুল আমিনের নিকট থেকে ১ লাখ টাকা, আঞ্জুমান আরা খাতুন এর নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা, হায়দার আলীর নিকট থেকে ২৫ হাজার টাকা, সেলিম রেজা এর নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা, আশরাফ আলীর নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা,কবির হোসেন এর নিকট থেকে ৩০ হাজার টাকা. গোলাম হোসেন এর নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা, শফিকুল ইসলাম এর নিকট থেকে ৭৫ হাজার টাকা, নুরু সর্দার এর নিকট থেকে ১৭ হাজার টাকা অজিহার রহমান এর নিকট থেকে ৬৫ হাজার টাকা, ছালামত আলীর নিকট থেকে ৪ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে।
ভুক্তভোগী গোগা গ্রামের হায়দার আলী বলেন, আমার ছেলে কালিনি গ্রামের একটি মেয়ের সহপাঠি। ওই মেয়ের যশোর কলেজ থেকে ফিরে আসাতে দেরী হওয়ায় সে আমার ছেলেকে বাগআঁচড়া থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফোন দেয়। আমার ছেলে আমার মোটরসাইকেল নিয়ে ওই মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসার সময় মিজান নামে একজন মোটরসাইকেল চালকের সহযোগিতায় মিজান মেম্বার আমার ছেলেকে মারধর করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এরপর অনেক দেনদরবার করে ২৫ হাজার টাকা তাকে চাঁদা দেওয়া হয়। কালাম হোসেন বলেন আমার বাজারে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে তা নিয়ে একটি কোম্পানির পন্য নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় মিজান মেম্বার আমার নিকট থেকে ১ লাখ টাকা আদায় করে। অন্যান্যরা ভয়ে মিজান ও তার বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তাদের কথা ভাগ্যে যা ছিল তাই হয়েছে। টাকা গেছে এবার মুখ খুললে যানও যেতে পারে।

গোগা পুর্বপাড়ার আঞ্জুমান আরা বলেন , আমি ৫ নং ওয়ার্ডে বসবাস করতাম। কিন্তু মিজান আমাকে রমজান মাসে কুপ্রস্তাব দেয়। আমি তার প্রস্তাবে রাজি না হলে সে আমাকে আমার এক আতœীয় ভারত থেকে বেড়াতে আসলে তার নামে অপবাদ দিয়ে প্রচুর মারধর এবং তাকে গুম করার হুমকি দিয়ে আমার নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। এরপর সন্ত্রাসী মিজান ও তার বাহিনীর মশিয়ার, ইমানুর, তাহাজ্জত এর অত্যাচারে আমি বাড়ি বিক্রি করে ৪ নং ওয়ার্ডে চলে যাই।

এ ব্যাপারে মিজান এর নিকট জানতে চাইলে সে চাঁদবাজির কথা অস্বীকার করে বলে গোগা পুর্বপাড়া গ্রামের আঞ্জুমান আরা একজন ভারতীয় মেহমানের সাথে অবৈধ সম্পর্ক থাকায় তার নিকট থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অন্যান্য যাদের কথা বলা হচ্ছে তা এলাকার শালিশ বিচারের টাকা জমি দখলের টাকা আদায় করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, আঞ্জুমান আরা নামে ওই নারীর কথা তিনি শুনেছেন। তবে ঘটনাটি বেশ আগের। ওই নারি খুব ভালো না। আর এলাকায় যে টাকা চাঁদাবাজির কথা বলা হচ্ছে এটা সত্য নয়। এটা শালিশ বিচারের টাকা আদায় হয়েছে মাত্র।
উল্লেখ্য ক্ষমতার দাপটে মিজান মেম্বার সরকারী রাস্তার ইট উঠিয়ে বাড়ির কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। ( চলবে)

আপনার মন্তব্য এই বক্সে লিখুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০১৮-এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Theme Developed BY AMS IT & Solutions